কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে (১৫টি কার্যকর টিপস)

যারা দোকানদারির ব্যবসা করেন, তাদের জন্য দোকানে বেশি বেচাকেনা করার উপায় জানা অতি জরুরি। কারণ দোকানে যত বেশি বেচাকেনা হবে, আপনার ব্যবসা তত বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি তত বেশি লাভবান হবেন।

কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলে রয়েছে দোকানে বেচাকেনা বৃদ্ধির উপায়, কি পদ্ধতি অবলম্বন করলে ব্যবসার উন্নতি হয়, দোকানে রহমত ও বরকত আসার দোয়া ইত্যাদি।

দোকানদারের সাথে বেচাকেনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি দোকানের মূল হলো বেচাকেনা। যদি বেচাকেনা না থাকে, তাহলে ওই দোকান থেকে কোনোভাবেই লাভ করা সম্ভব নয়। তাই আপনাকে জানতে হবে কি করলে দোকানে বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে।

Table of Contents

কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে

দোকানে বেচাকেনা বেশি হওয়ার জন্য আপনাকে পণ্যের কোয়ালিটির (অর্থাৎ গুণগত মান) এবং আপনার ব্যবসা পরিচালনার পদ্ধতির ওপর নজর রাখতে হবে। তাছাড়া, উপযুক্ত জায়গায় দোকান স্থাপন করে সঠিক ক্রেতাদের টার্গেট করলে আপনার দোকানের বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে।

১. দোকানের অবস্থান সঠিক জায়গায় নিশ্চিত করুন

যে কোনো ধরণের ব্যবসার জন্যই লোকেশনের বা জায়গার গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন, লাইব্রেরী ও স্টেশনারি দোকানের জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও অফিস আদালতের আশেপাশে।

📌আরো পড়ুন👉 কম টাকায় উৎপাদনমুখী ব্যবসার আইডিয়া

অর্থাৎ, আপনি যে ধরণের পণ্য বিক্রয় করছেন, সেই ধরণের ক্রেতা যেখানে বেশি পাওয়া যাবে, সেখানেই আপনার দোকানের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

অথবা, আপনি যেখানে দোকান স্থাপন করছেন, সেখানকার গ্রাহকদের চাহিদা ও পছন্দ অনুসারেই আপনার পণ্য নির্বাচন করে ব্যবসা করতে হবে। তাহলেই আপনার দোকানের বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে।

২. সততা বজায় রেখে ব্যবসা করুন

দোকানে বেচাকেনা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সততা বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং হারাম থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকা, যেমন:

  • ওজনে কম না দেয়া
  • ধোঁকা-প্রতারণা থেকে বিরত থাকা
  • ভালোর সাথে নিম্নমানের দ্রব্য না মিশ্রিত করা
  • সত্য কথা বলা

ব্যবসার মধ্যে ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করে ব্যবসা করতে পারলে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তাতে বরকত দান করবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইসলামে ব্যবসা করার নিয়ম।

৩. সব বাজেটের জিনিস রাখুন 

সব মানুষের বাজেটের কথা মাথায় রেখে দোকানে পণ্য রাখা উচিত। ধনী, মধ্যবিত্ত কিংবা দরিদ্র যেই হোক না কেন, সে যেন তার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী আপনার দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারে। সেজন্য সকল বাজেটের জিনিস রাখা উচিত।

৪. সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম রাখুন

অতিরিক্ত লাভের আশায় পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিলে ক্রেতারা দোকানে আসতে চায় না। যার ফলে বিক্রি সীমিত পরিসরে চলে এবং লাভ হয় না।

কিন্তু যদি প্রতিটি পণ্যের লাভের অঙ্কটা কমিয়ে আনা যায়, তাহলে আপনার বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এতে কম মুনাফা করেও আপনার আয় অনেক বেড়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

৫. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করুন

আপনি আপনার দোকানে যে পণ্যগুলো বিক্রয় করছেন, সেগুলোর অনলাইনের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হলে আপনার দোকানের জন্য একটি ফেসবুক পেজ খুলুন।

কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে

সেখানে আকর্ষণীয় সব অফার এবং আপনার পণ্যের গুণগত মান ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে মার্কেটিং করতে থাকুন। এর ফলে আপনার দোকানের বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে।

৬. আকর্ষণীয় অফার ও প্রচারণা করুন

আপনার দোকানের বাইরের দিকে লিফলেটে আকর্ষণীয় টাইটেল লিখে দেয়ালে টাঙিয়ে দিন। এখানে সুন্দর সুন্দর কথা লিখতে পারেন, যেমন:

  • বাজার করুন সব বাজেটে
  • কম খরচের সহজ সমাধান আমাদের এই দোকান
  • প্রতিটি পণ্যে পাবেন ১০% করে ডিসকাউন্ট
  • ১০০০ টাকার উপরে বাজারে থাকছে ২০% ডিসকাউন্ট 
  • অনলাইনে অর্ডার করলে ডেলিভারি ফ্রি
  • কম খরচের সহজ সমাধান আমাদের এই দোকান
  • ২০০০ টাকার বেশি পণ্য ক্রয় করলে আকর্ষণীয় গিফট ভাউচার
  • তিনটি কিনলে একটি ফ্রি

এছাড়া পণ্যের নাম ও দামের সাথে বিভিন্ন ধরনের ছন্দ মিলিয়ে কয়েকটি লাইন তৈরি করেও লিফলেটে ছাপিয়ে দোকানের বাইরে লাগাতে পারেন। তাছাড়া, যে সকল ক্রেতারা দোকানে পণ্য কিনতে আসবে তাদের একটি করে লিফলেট ও চকলেট দিতে পারেন।

৭. অরিজিনাল ব্র্যান্ডের পণ্য রাখুন

একটি দোকানে সব সময় অরিজিনাল ব্র্যান্ডের পণ্য রাখা উচিত। অরিজিনাল ব্র্যান্ডের পণ্য রাখার সাথে বিক্রির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেমন, ধরুন একটি ব্র্যান্ডের পণ্যের দাম হচ্ছে ১০০০ টাকা। যখন একটি ব্র্যান্ড পপুলার হয়ে যায়, তখন এর ডুপ্লিকেট বাজারে দেখা যায়। 

একই নামে বাজারে ২০০ থেকে আড়াইশো টাকা দামে পাওয়া যায়। দেখতে একই হলেও এর কার্যকারিতা অরিজিনালের মতো নয়। মানুষ কম দাম দেখে সেই নকল ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয় করে। 

কিন্তু এরপর যখন নকল পণ্য কিনে প্রতারিত হয়, তখন সেই নকল ব্যান্ডের পণ্য যে দোকান থেকে কিনেছে, সে দোকানে আর আসে না। নকল জিনিসের চাহিদা সীমিত সময় ধরে থাকে, কিন্তু অরিজিনাল জিনিসের দাম বেশি হলেও এতে মানুষকে ঠকানো হয় না এবং মানুষ বিশ্বাস করে জিনিস নিতে পারে।

৮. ক্রেতার সাথে ভালো ব্যবহার করুন

একজন দোকানদারের ভালো ব্যবহার ক্রেতাকে পরবর্তী সময়ে আবার সেই দোকানে ফিরে আসতে উৎসাহিত করে। ধরুন একজন ক্রেতা আপনার দোকানে ৫০টি জিনিস দেখে একটা জিনিসও কিনলো না। তবুও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না।

কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে

হতে পারে সেই ব্যক্তি আর একদিন এসে আপনার দোকান থেকে কোনো না কোনো পণ্য ক্রয় করতে পারে। এভাবে ক্রেতাদের সাথে ভালো আচরণ করেও আপনার দোকানের বেচাকেনা বৃদ্ধি করতে পারেন।

৯. এলাকার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য রাখুন

আপনার দোকান যে এলাকায় অবস্থিত, সেই এলাকার মানুষ কোন ধরনের জিনিস পছন্দ করে এবং তাদের মধ্যে কোন ধরনের জিনিস কেনার প্রবণতা বেশি—তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সেই পছন্দের কথা মাথায় রেখেই আপনাকে দোকানে জিনিস রাখতে হবে।

১০. বিভিন্ন দিবসে ডিসকাউন্ট অফার করুন

আমাদের দিবসগুলো, যেমন – স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ, বাবা দিবস, মা দিবস, শিশু দিবস, নারী দিবস, শ্রমিক দিবস, ইত্যাদি বিভিন্ন দিবসে অনেক অফার রাখতে পারেন।

📌আরো পড়ুন👉 উৎপাদনমুখী ব্যবসার মূলনীতি 

এছাড়া ক্যালেন্ডার লক্ষ করলে দেখতে পাবেন প্রতিদিন কোনো না কোনো দিবস। এক্ষেত্রে আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিবসে আকর্ষণীয় অফারের পণ্য বিক্রয় করতে পারেন। দোকানের সামনে ব্যানার বা লিফলেট টাঙিয়ে বড় করে লিখে নিতে পারেন বিশেষ দিবসের বিশেষ ডিসকাউন্ট।

১১. প্রতিযোগিদের সাথে তাল মিলিয়ে চলুন

মনে করুন, একজন কাস্টমার এসে আপনার কাছে কোনো নির্দিষ্ট একটি জিনিস চাইছে। কিন্তু জিনিসটি আপনার দোকানে নেই। আপনি তাকে বললেন যে এটি আপনার কাছে হবে না, আর সে অন্য দোকানে চলে গেল।

কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে

এরপর আরো অনেক কাস্টমার আসে এবং সেই জিনিসটি আপনার দোকানে আছে কিনা জিজ্ঞাসা করে। আপনি আবার আগের মতো বলেন, “আমার দোকানে নেই”।

এইখানে একটি বড় ভুল হয়ে গেল। আপনি যখন বুঝতে পারছেন যে নির্দিষ্ট কোনো জিনিসের চাহিদা বাজারে রয়েছে এবং সেটি অন্য দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, তখন আপনাকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও এগিয়ে থাকতে হলে সেই জিনিসটি আপনার দোকানে স্টক করতে হবে। অর্থাৎ, আপনাকে বাজারের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

১২. ভালো ও খারাপ জিনিস একসাথে মেশাবেন না

দোকানে অনেক ধরনের জিনিস থাকে। এর মধ্যে অনেক সময় দোকানিরা খারাপ জিনিসগুলোকে ভালো জিনিসের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করে দেয় এমনটা করলে ক্রেতারা সেই দোকানে আর আসবে না এবং দোকানের একটি বদনাম ছড়িয়ে যাবে। যার ফলে দোকানের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তাই, সব সময় ভালো মানের পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করতে হবে। খারাপ মানের যে সকল পণ্য রয়েছে, সেগুলো বিক্রি করার পূর্বে ক্রেতাকে অবশ্যই সে পণ্যের ত্রুটির কথা জানিয়ে দিতে হবে এবং কম দামে বিক্রি করতে হবে।

১৩. বিশ্বস্ত ও আন্তরিক সেলসম্যান ও কর্মী রাখুন

আপনার দোকানে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একাধিক সহযোগী প্রয়োজন হলে তাদের ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে দোকানে রাখবেন। কারণ তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই দোকানে বেচাকেনা অনেকটা নির্ভর করবে।

১৪. ব্যবসাকে একটি নেক আমল হিসেবে মনে করুন

ব্যবসা যখন আমানতদারি, বিশ্বস্ততা এবং সততার সাথে করা হয়, তখন এটি নেক আমলে পরিণত হয়। দোজাহানের সর্দার মহানবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ব্যবসা করেছেন এবং ব্যাপক পরিসরে করেছেন। এই অঙ্গনে তিনি আমাদের জন্য অনেক আদর্শ রেখে গেছেন।

১৫. ধৈর্য ধারণ করুন

ব্যবসা কথাটির সাথে ধৈর্য যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ধৈর্য না থাকলে আর যাই হোক, ব্যবসা করা সম্ভব নয়। ব্যবসা মানুষের ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। 

কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে

দোকানে ক্রেতা আসবে নাকি আসবে না, নাকি ক্রেতা এসেও পণ্য বিক্রয় করা সম্ভব হবে না এই সব কিছুই মেনে নিতে প্রয়োজন ধৈর্য ও অপেক্ষা। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, তাহলেই ব্যবসা ভালো হবে।

উপরে উল্লিখিত এই ১৫টি পরামর্শ মেনে ব্যবসা পরিচালনা করলে খুব কম সময়ে আপনার দোকানে বেচাকেনা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

কোন সূরা পড়লে ব্যবসায় উন্নতি হয়

ব্যবসার উন্নতির জন্য কোনো নির্দিষ্ট সূরা বা আমল থাকলেও, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং পরিশ্রম করা সবচেয়ে জরুরি।

‘সূরা আর-রাক’ পড়লে ব্যবসায় উন্নতি হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন, তবে এর পাশাপাশি “আল্লাহুম্মাক ফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক” (হে আল্লাহ! আমাকে তোমার হালাল দ্বারা হারাম থেকে বিরত রেখো এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা অন্যদের থেকে আমাকে পরিতৃপ্ত করো) দোয়াটি পড়া উচিত। 

এছাড়া “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আজীম, আস্তাগফিরুল্লাহ” (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আজীম, আস্তাগফিরুল্লাহ) জিকিরটিও করা যেতে পারে। 

কোন দোয়া পড়লে ব্যবসায় উন্নতি হয়

ব্যবসায় উন্নতির জন্য কিছু বিশেষ দোয়া ও আমল রয়েছে, যেমন: ‘আল্লাহুম্মা ইয়া আওয়ালাল আওলীন, ইয়া আখিরোল আখিরিন, ইয়া ঝাল কুয়াতিল মাতিন, ইয়া রহিমাল মাসাকিন, ইয়া আর হামার রহিমিন’। 

এছাড়া, “سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم” এবং “استغفر الله” দোয়াগুলোও বরকত ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য পড়তে পারেন। এছাড়াও, ‘আল্লাহুম্মাক ফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক’ দোয়াটিও অত্যন্ত কার্যকর যা আপনার ব্যবসাকে হালাল পথে পরিচালিত করতে এবং অন্যের মুখাপেক্ষী না হতে সাহায্য করে। 

ব্যবসায় উন্নতির জন্য দোয়া

প্রথম দোয়া: “আল্লাহুম্মা ইয়া আওয়ালাল আওলীন, ইয়া আখিরোল আখিরিন, ইয়া ঝাল কুয়াতিল মাতিন, ইয়া রহিমাল মাসাকিন, ইয়া আর হামার রহিমিন।”

অর্থ: হে আদি ও অন্ত, হে শক্তিশালী ও দৃঢ়তা সম্পন্ন, হে দরিদ্রের প্রতি দয়ালু এবং হে পরম দয়ালু!

দ্বিতীয় দোয়া: “سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم।”

অর্থ: “আল্লাহ পবিত্র এবং তার প্রশংসার সাথে। আল্লাহ মহান।”

তৃতীয় দোয়া: “استغفر الله।”

অর্থ: “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।”

চতুর্থ দোয়া: “আল্লাহুম্মাক ফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।”

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে তোমার হালাল দ্বারা হারাম থেকে বিরত রেখো এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা অন্যদের থেকে আমাকে পরিতৃপ্ত করো।” 

সকালে “সকালের দোয়া” পড়া, যা আপনাকে শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে এবং জীবনে সফলতা আনবে। ব্যবসার ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর বিধান ভুলে না যাওয়া এবং তাঁর প্রতি সর্বদা স্মরণ রাখা।

ব্যবসার উন্নতি ও রিজিকে বরকত লাভের জন্য প্রার্থনা করা। 

ব্যবসায় রহমত ও বরকতের দোয়া

ব্যবসায় উন্নতি করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট আমরা এই দোয়া পড়ে প্রার্থনা করতে পারি –

‎الله يا أول الأولين ، يا خيرول خيرين ، يا جهال كوكتيل متين ، يا رحيم مساكن ، يا الحمر رحيمين.

উচ্চারণঃ আল্লাহুমা ইয়া আওয়ালাল আওলীন, ইয়া আখিরোল আখিরিন, ইয়া ঝাল কুয়াতিল মাতিন, ইয়া রহিমাল মাসাকিন, ইয়া আর হামার রহিমিন।

এছাড়াও আরো কিছু দোয়া পড়ে ব্যবসায় উন্নতি লাভ করতে পারি এবং রোজগার বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করতে পারি। যেমন –

‎سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم استغفر الله.

উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আজীম, আস্তাগফিরুল্লাহ ৷

দোকানে কাস্টমার আসার দোয়া 

অনেকে দোকানে কাস্টমার আসার দোয়া লিখে অনলাইনে সার্চ করে থাকে। দোকানে কাস্টমার আসে না বলেই দোয়ার কথা মনে পড়ে। কিন্তু প্রতিদিন যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে এবং ইসলামের বিধি-বিধান পালন করতে হবে, এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব থাকে না।

তাহলে কি লাভ হবে দুই-তিনটি লাইনের কাস্টমার আসার দোয়া মুখস্থ করে? আবার অনেকেই দোকানে বেচাকেনা বৃদ্ধির দোয়া লিখে টাঙিয়ে রাখেন, কেউ বা তাবিজ নিয়ে থাকেন। এগুলোর কোনটিই করা উচিত নয়।

আমাদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া উচিত এবং নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত, যেন আমরা ব্যবসার মাধ্যমে হালালভাবে উপার্জন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারি এবং ইহকাল ও পরকালে ভালো থাকতে পারি।

আল্লাহর ওপর ভরসা করে ব্যবসা করলে অবশ্যই আল্লাহ তাতে বরকত দান করবেন। তবে যদি ব্যবসায় ইসলামী রীতি অনুসরণ করা না হয়, তাহলে বরকত হবে না। কেননা, রাসূল সা: বলেছেন,“….যদি তারা মিথ্যা বলে ও (দোষ) গোপন করে, তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত বিনষ্ট হয়ে যাবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৭৯)

FAQs

দোকানে কোন দিকে মুখ করে বসা উচিত?

বসার ব্যবস্থা : ব্যবসার মালিকদের উত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসতে হবে।

ব্যবসায় সফল হওয়ার সহজ উপায়?

ব্যবসায়ে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ইউনিক ব্যবসা আইডিয়া খুঁজে বের করতে হবে। এরপরে সকলের থেকে আলাদাভাবে ও সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

দোকানে বেশি বিক্রি হওয়ার উপায়?

দোকানে বেশি বিক্রি হওয়ার জন্য আপনাকে পণ্যের কোয়ালিটির দিকে এবং আপনার ম্যানেজমেন্টের দিকে নজর রাখতে হবে। এরপর সঠিক জায়গায় দোকান স্থাপন করে সঠিক কাস্টমার টার্গেট করলে আপনার দোকানের বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে।

লেখকের শেষ কথা

আশা করি আর্টিকেলের মাধ্যমে, কি করলে দোকানে বেশি বেচাকেনা হবে—এ বিষয়ে অনেকগুলো ধারণা পেয়েছেন। তাই আর দেরি না করে উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা করুন। তাহলে দোকানে বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে ইনশাল্লাহ।

Sharing Is Caring

Leave a Comment